Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

রহস্য ও রোমাঞ্চের টুইস্ট

ঋতুপর্ণ-পরবর্তী বাংলা ছবির কাণ্ডারী হিসেবে হয়ত সৃজিত মুখোপাধ্যায়ই থাকবেন তালিকার শীর্ষে, লিখছেন চন্দন রায় ।

Chandan Roy
Mon, Oct 27 2014

About Chandan

কালিয়াগঞ্জ কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক চন্দন রায়ের নেশা সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মননশীল কাজের বিশ্লেষণ করা ।


More in Culture

Happy Colours of Life

Durga Puja in London: The UnMissables

Mahishasura Mardini

একা বোকা

 
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি দেখতে যাওয়ার আগেই মনে প্রত্যাশার পারদ চড়তে থাকে।এটা আগের ছবির ভালোলাগার থেকে আরো বেশি দিতে পারবে তো !

‘চতুষ্কোণ’ সব অর্থেই এক ভিন্ন স্বাদের থ্রিলার । আর সব চেয়ে মজার দিকটা হল, একটা ছবির মধ্যে তিনটে স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি দেখার রোমাঞ্চ । আর চতুর্থ ছোট গল্পটি মূল চলচ্চিত্রকে রহস্যের বাঁকা পথে নিয়ে পৌঁছোয় সেই চরম ক্লাইম্যাক্স-এ, যা নিঃসন্দেহে ‘চতুষ্কোণ’ কে দিয়েছে একটা রহস্য-রোমাঞ্চ সম্বলিত অন্য মাত্রা ।

কাহিনীর শুরুতেই তিনজন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালকের কাছে ছোট ছোট দৈর্ঘ্যের ছবি নিয়ে একটা বড় চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তাব আসে । যার মূল বিষয় হবে ‘মৃত্যু’।

পরিচালকরা হলেন তৃণা (অপর্ণা সেন), দীপ্ত (চিরঞ্জিত) এবং শাক্য (গৌতম ঘোষ) । আর যে অল্পবয়সী পরিচালক গভীর উৎসাহে এই বার্তাটি বহন করে আনেন তিনি হলেন জয় (পরমব্রত) ।

অনেক টালবাহানার পর চারজন রাজি হয়ে যান একত্রিত হয়ে ছবি বানানোর পরিকল্পনায়। এক দিকে প্রৌঢ় জীবনে মৃত্যু’র অমোঘ আকর্ষণ, অন্যদিকে অতীত জীবনের ফেলে আসা প্রণয়–রসায়ণ । সব মিলিয়ে হাজারো উত্তেজনাকে সঙ্গী করেই বকখালির অদূরে হেনরি’জ আইল্যাণ্ডে-র গন্তব্যে যাত্রা শুরু হয় এই চারজনের ।

ছবির শুরুতেই দেখানো হয়েছে যে ঝুলন্ত গৃহবধূর মৃতদেহ আর পরম বিষ্ময়াতঙ্কে হতবাক এক শিশুর মুখ, প্রেক্ষাগৃহে তা কিন্তু তখনো তাড়া করে ফিরছে কৌতূহলী মনকে ।

তৃণা–দীপ্ত-র ফেলে আসা প্রণয় সম্পর্ক, তাদের অতীত জীবনের রোমাঞ্চ…… স্মৃতি-র চোরাপথ দিয়ে ঘুরে ফিরে আসে । আমরা বুঝতে পারি শাক্য-র উপস্থিতি সেই রসায়নে কতটা গুরুত্ব বহন করে । এখন এই পড়ন্ত যৌবনেও সেই আবেগ, সেই প্রোটেক্টিভ অ্যাটিটিউড ছাপিয়ে ওঠে তিনজনের অসামান্য অভিনয়ে ।

গন্তব্যে পৌঁছোনোর যাত্রাপথেই বর্ষীয়ান তিন পরিচালকই শেয়ার করেন তাদের মৃত্যু-বিজড়িত শর্ট-ফিল্মের রোমহর্ষক সব কাহিনী, যা নিশ্চিতভাবে সৃজিতের স্বতন্ত্র ও মৌলিক চিন্তার ছাপ বহন করে চলে । তা সে রিভার্স-প্ল্যানচেটের গল্পই হোক বা সিরিয়ালে আচমকা খুন হয়ে যাওয়া কল্প-চরিত্রদের প্রতিশোধের গল্প ।

রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ যেমন প্রেম-কবিতা-উপলব্ধি’র উপন্যাসকে এক আধুনিকতা প্রদান করেছিল, মনে হল সৃজিতের চতুষ্কোণে-র আড়ালে, বাংলা চলচ্চিত্রে ভূতের গল্প সাবালকত্ব অর্জন করল।

কমবয়সী জয়-ই হলেন সেই চতু্র্থ পরিচালক, যার চলচ্চিত্র কাহিনীর প্লট শুরু হতেই তৃণা বলে ওঠে... ‘তোর এই ছিল মনে...?’

এ’ যে হুবহু তৃণা-দীপ্ত আর শাক্যের ফেলে আসা জীবনের কাহিনী...রিল লাইফ আর রিয়েল লাইফে-র ব্যবধান ক্রমশ কমতে থাকে...। ভেসে আসে পুরোনো দিনের সেই হাসি-কান্না, ভুল-ভ্রান্তি...।

যে ত্রিভুজ প্রেমের ওঠাপড়ায় ধ্বংস হয়ে যায় এক সম্ভবনাময় চলচ্চিত্র প্রযোজকের জীবন। স্ত্রী গলায় দড়ি দেওয়ার পর তিনি নিজেও হয়ে পড়েন মানসিক ভারসাম্যহীন ।

আর ছবি’র প্রথম দৃশ্যের সেই আতঙ্কগ্রস্ত শিশুটি হল প্রযোজকের ছোট ভাই – জয়, যার প্রতিশোধস্পৃহায় নির্ণীত গোটা চলচ্চিত্র নির্মাণের এই কল্পকাহিনী ।

হেনরি’জ আইল্যাণ্ডের নির্জন হোটেলে যে চতুষ্কোণ টেবিল যত্নের প্রাতঃরাশে সুসজ্জিত ছিল, মুহূর্তে তা বদলে যায় এক হত্যাবেদীতে । বাকিটুকু অশ্রুত থাক, অন্যথায় রুদ্ধশ্বাসে শেষ মুহুর্ত অবধি চতুষ্কোণ দেখার আগ্রহ নষ্ট হতে পারে।

কেবল শেষ দৃশ্যের অবতারণা না করে পারছি না । তৃণা’র স্বামী মলয় যখন বিবাহবার্ষিকী’র দিন নিজের স্ত্রীকে মানসিক হাসপাতালের সামনে অতীতের আবেগ, অনুশোচনায় দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে এককালের প্রেমিক দীপ্ত’র বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে দেখেন ...কোনো প্রতিশোধ বাসনা জাগে না তার ।

আবহে সঙ্গীত ধ্বনিত হয়...‘যদি এক মুহুর্তের জন্য আমায় চাও, সেটাই সত্যি...।’ আর এটাই হয়ত চতুষ্কোণকে উন্নীত করে এক ক্লাসিক উপলদ্ধি্র স্তরে । ফুটে ওঠে স্থিরতা ও সহবতের সমন্বয়ে এক স্থিতপ্রজ্ঞ অনুভূতি, যা বয়সের পরিণীতিতে আরও উজ্জ্বল।

নজরকাড়া অভিনয়ে মন মাতিয়েছন অপর্ণা, চিরঞ্জিত, গৌতম এবং পরমব্রত । দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে একে অপরকে টেক্কা দিয়ে গেছেন । মলয়ের চরিত্রে বরুণ চন্দ এক কথায় অসাধারণ । কেবল ছবিটার আয়তন কিছুটা কম হলে আর গতি কিছুটা বৃদ্ধি পেলে, আরো ধারালো হতে পারত চারটে কোণ।

জয়ের মানসিক ভারসাম্যহীন দাদার চরিত্রে কৌশিক গাঙ্গুলী আবার প্রমাণ করলেন ভালো পরিচালকেরা যে’কোন মুহূর্তে হয়ে উঠতে পারেন ভাল অভিনেতা ।

আর এই ঘরানার যিনি জন্ম দিয়েছিলেন, সেই ঋতুপর্ণ ঘোষ - কেনো জানি সেই প্রতিভাবান মৃত ব্যক্তিটির নিঃশব্দ পদচারণা অনুভূত হয় এই চলচ্চিত্রের প্রতিটি অনুদৃশ্যে । প্রেম, প্রতিস্পৃহা ও ভৌতিক ছবিকে এক অনন্য মাত্রা দান করেছে সেই প্রভাব স্পর্শ ।

এ’প্রসঙ্গে একটা কথা সৃজিতকে জানানো জরুরী । ঋতুপর্ণ-পরবর্তী বাংলা চলচ্চিত্রের কাণ্ডারী হিসেবে হয়ত আপনিই থাকবেন তালিকার শীর্ষে । আপনার ‘চতুষ্কোণ’ বহু মুহূর্ত অবধি দেশে-বিদেশে চলচ্চিত্র প্রিয় কৃষ্টিশীল বাঙালী মননে বেঁচে থাকবে, আর সেটাই সত্যি !

Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 

 

  Popular this month

 

  More from Chandan

advertisement

PrabashiPost Classifieds



advertisement


advertisement


advertisement