Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

গোবিন্দের গীত হতে উত্তরণ মেঘদূতে

গীতগোবিন্দের অনুবাদকর্মের চিন্তাটি মাথায় যখন থিতু হল তখন দিলীপ কুমার দাস-এর মানসজগৎটি পুরোপুরি গীতগোবিন্দে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।

Dilip Das
Sat, Feb 14 2015

Illustration: Tanima Das

About Dilip

A public health physician in New Zealand, Dilip Das hails from a village in West Bengal’s Burdwan district. His literary interests include writing ‘belles-lettres’ (রম্য-রচনা) and short stories. He is the Joint Editor of Ankur. Please click here for the latest issue of ‘Ankur’


More in Culture

Happy Colours of Life

Durga Puja in London: The UnMissables

Mahishasura Mardini

একা বোকা

 
মানুষ কত কি পায়। ধন-জন, মান-সম্মান, খ্যাতি-প্রতিপত্তি, আরো কত কিছু। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এর উল্টোটাই ঘটে। সারাজীবন অনেক চেষ্টা-চরিত্র করেও শেষে ‘হাতে রইল পেনসিল’। সে যাইহোক, এই পাওয়া না পাওয়ার আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ এই লেখার উদ্দেশ্য নয়।

মানুষ যেমন অনেক কিছু পায় বা পায় না, তেমনি মানুষকেও কত কিছুতে পায়। যেমন ভূতে পাওয়া। ছোটবেলায় গ্রামে থাকতে দেখেছি কাউকে কাউকে ভূতে পেত। সেই উৎপাত বা অপদেবতা বিতারণের কৌশল ছিল ওঝার কিছু অদ্ভুত ক্রিয়াকলাপ আর সবার শেষে সম্মার্জনী সহকারে ভূতে পাওয়া মানুষটিকে প্রহার। এখন আর এই ভূতে পাওয়ার কথা তত শোনা যায় না। হয়তো বৈদ্যুতিক আলো, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান আর চিকিৎসাবিদ্যার প্রসারে ভূতদের সকলেই পরশুরামের ভুশুন্ডির মাঠে শ্যাওড়াগাছে, তালগাছে বা ন্যাড়া বেলগাছে আশ্রয় নিয়েছে। লোকালয়ে আসতে তারা ভয় পায়। ভূত এখন একটি ক্ষয়িষ্ণু প্রজাতি!

ভূতে পাওয়া বিরল হলেও এখন কাউকে কাউকে ‘মতে’ পায়। সে ‘মত’ এমন ভাবে মাথায় চেপে বসে যে মানুষটিকে সারাজীবন ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়। এই মত ধর্মীয় হতে পারে, রাজনৈতিক হতে পারে, আবার অন্য কিছুও হতে পারে। এরকম একটি মতে পাওয়া মানুষ হলেন শ্রী কে সি পাল। তাঁর পুরো নাম খুব সম্ভবত শ্রী কার্ত্তিক চন্দ্র পাল। তিনি ছা-পোষা অখ্যাত মানুষ হলেও অনেকেই তাঁকে চিনতে পারবেন। পাল মশাই-এর মাথায় কি করে ঢুকেছে জানিনা যে সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। আর সেই ‘মত’ তাঁকে সারাজীবন ঘোরাচ্ছে। এই মত প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি কি না করেছেন? NASA-য় চিঠি লিখেছেন, হাওড়া স্টেশনের কাছাকাছি দেওয়ালগুলিতে যেখানে ফাঁক পেয়েছেন সেখানে চূণ দিয়ে স্বহস্তে লিখে সেই মত প্রচার করেছেন। আর প্রতি বছর কলকাতার বইমেলায় স্বয়ং উপস্থিত থেকে নিজের মত সম্পর্কে মেলার মানুষকে বোঝানো তো আছেই। ভূতে পাওয়ার চেয়ে এই ‘মতে’ পাওয়ার হ্যাপাও কিছু কম নয়।

কিছুদিন আগে দেবীদার (ওয়েলিংটনের শ্রী দেবীপ্রসাদ মজুমদার – অঙ্কুর-এর যুগ্ম-সম্পাদক। অঙ্কুর-এর কথায় পরে আসছি।) কাছে শুনেছিলাম কাউকে কাউকে নাকি তর্কে পায়। স্বর্গীয় দিলীপ কুমার রায় ‘পিতৃস্মৃতি’তে লিখেছেন তাঁর বাবা কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় খুব তার্কিক ছিলেন। তাঁর এক প্রতিবেশীও তর্ক করতে ভালবাসতেন। এক রাত্রে কবির ঘুম আসছে না। রাত দুটোর সময় প্রতিবেশীর দরজায় ঠক্‌ঠক্‌।

- কি ব্যাপার, এত রাত্রে? বিপদ-আপদ কিছু হল নাকি?

কবি বললেন করুণ হেসে, ‘তর্কে পেয়েছে’।

এই হল তর্কে পাওয়া!

এবার নিজের কথা বলি। আমাকে তর্কে, মতে বা ভূতে পায়নি, কিন্তু ‘গীতে’ এবং ‘দূতে’ পেয়েছিল। প্রথমে গীতের কথা। আমি গানের ‘গ’ জানিনা। সেই আমাকে পেয়েছিল কিনা গোবিন্দের গীতে মানে গীতগোবিন্দে। পেয়েছিল বলি কেন, এখনও পেয়ে আছে। ব্যাপারটা হল এই রকম।

আমার বিয়ে হয়েছে ১৯৮৫ সালে। বিয়ে হওয়া থেকেই দেখে আসছি শ্বশুরবাড়ীর বসার ঘরের দেওয়ালে রাধাকৃষ্ণের একটি ছবি ঝুলছে – আমার বড় শ্যালকের কম বয়সে আঁকা। শ্বশুরমশাই ছেলের শিল্পকর্ম যত্ন করে বাঁধিয়ে রেখেছেন। তবে বিশেষভাবে খেয়াল করার মত কিছু না। এরকম ঠাকুর-দেবতার কত ছবিই তো গৃহস্থবাড়ীর দেওয়ালে ঝোলে। শ্যালকের আঁকার হাত ছিল। এখন সংসারের যাঁতাকলে আর চর্চার অভাবে অঙ্কন-প্রতিভা চাপা পড়ে গেছে। তবে তাঁর নিজের কন্যাটি এবং আমার কন্যাদুটি মোটামুটি আঁকতে শিখেছে। আমার কন্যাদের ক্ষেত্রে কোনরকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই আঁকতে পারার ব্যাপারটি ‘নরাণাং মাতুলক্রমঃ’-এর ফলশ্রুতি বোধহয়। যাইহোক, এই সাতাশ-আটাশ বছরে রাধাকৃষ্ণের ঐ ছবি আমার মনে কোন অনুসন্ধিৎসা জাগাতে পারেনি।

বছর ছয় সাত হল আমার সাহিত্যচর্চার একটু সখ এবং সুযোগ হয়েছে। ওয়েলিংটনে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ‘অঙ্কুর’ নামের পূজাবার্ষিকীটি হল আমার সেই সাহিত্যচর্চার প্রধান বাহন। দেবীদার সাথে আমি অঙ্কুর-এর যুগ্ম-সম্পাদক। এখন এই অঙ্কুর-এ প্রকাশের জন্য একটু ভালো মানের লেখা বা ছবির সন্ধানে আমাদের চোখ-কান খোলা রাখি। বছর দুই আগে দেশে গিয়ে শ্বশুরালয়ে রাধাকৃষ্ণের ঐ ছবিটি দেখে হঠাৎই মনে হল এটি অঙ্কুর-এ ছাপলে দেখাবে ভাল। শ্যালককে বলতে তিনিও এক কথায় রাজি হলেন। অতএব ডিজিট্যাল কামেরাবন্দি হয়ে রাধাকৃষ্ণ নিউজিল্যাণ্ড পাড়ি দিলেন।

দেশ থেকে ফিরে আমি ছবিটির একটি জুতসই নামের সন্ধান করতে থাকলাম। প্রথমে নাম দিয়েছিলাম ‘রাধাকৃষ্ণ’। পরে সেটিকে বদলে করলাম ‘কুঞ্জবিহারী’। আরো পরে মনে হল নামটিকে একটু জমকালো আর ‘আঁতেল’ করতে হবে। ছবির নিচে লিখলাম ‘স্মরগরল খণ্ডনং মম শিরসি মণ্ডনং ...’ ইত্যাদি। লিখলাম তো। কিন্তু শ্লোকের মানে বুঝি না। চেষ্টা হল অর্থ উদ্ধারের। অনুসন্ধান করে আন্তর্জালে (ইন্টারনেটে) পাওয়া গেল গীতগোবিন্দ। সেখান থেকে শ্লোকের অর্থ উদ্ধার হল। তা যখন হল তখন দেখলাম ছবির সাথে শ্লোক মোটেই মিলছে না – দুইয়ের অবস্থান একেবারে বিপরীত মেরুতে। সুতরাং ছবির বর্ণনা আবার বদলানো দরকার। ঐ গীতগোবিন্দেই সন্ধান পাওয়া গেল ‘ধীর সমীরে যমুনাতীরে বসতি বনে বনমালী’র। ছবিটির বর্ণনায় এই পদটিই আমার উপযুক্ত বলে মনে হল। আর এই যমুনাতীরের বনমালীই আমার সামনে গীতগোবিন্দের রসধারাটি উন্মুক্ত করে দিলেন।

ভক্তকবি শ্রীজয়দেবকৃত ‘শ্রীশ্রীগীতগোবিন্দ’ কাব্যগ্রন্থটির সাথে আমার আগে তেমন পরিচয় ছিল না। ছাত্রাবস্থায় শুধু ‘স্মরগরল খণ্ডনং মম শিরসি মণ্ডনং দেহি পদপল্লবমুদারম্‌’ পদটি এবং সেটি সম্পূর্ণ করার পিছনে অলৌকিক ঘটনার কাহিনী শুনেছিলাম। এখন পরিণত বয়সে এই কাব্যের সঙ্গে কিঞ্চিৎ পরিচয় হয়ে বুঝতে পারছি আদিরসসিক্ত এই বৈষ্ণব কাব্যের সঙ্গে ছাত্রাবস্থায় নিবিড় পরিচয় হবার কথাও ছিল না। যাই হোক, বর্তমান বৈদ্যুতিন যুগে তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে প্রাচীন সাহিত্য এবং কাব্যের রত্নভান্ডারটি সহজলভ্য হয়েছে। West Bengal Public Library Network এ গীতগোবিন্দের দুটি বাংলা সংস্করণ রয়েছে। একটি শ্রী বিজয়চন্দ্র মজুমদারকৃত বাংলা হরফে মূল সংস্কৃত কাব্যটি এবং তার বাংলা অনুবাদ (http://hdl.handle.net/10689/7890)। আর অন্যটি শুধু বাংলা পদ্যানুবাদ – জনৈক শ্রী বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য্যকৃত (http://hdl.handle.net/10689/6409)। গুণগতভাবে শ্রী ভট্টাচার্য্যের অনুবাদটিই আমার উৎকৃষ্টতর বলে মনে হয়েছে। তবে এতে মূল সংস্কৃত কাব্যটি অনুপস্থিত এবং শব্দ ও ছন্দমাধুর্য অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তিত হয়েছে। এই দুটি অনুবাদই কমবেশী শতাব্দী প্রাচীন। চেষ্টা করেও এই দূর প্রবাসে গীতগোবিন্দের আধুনিক কোন বাংলা অনুবাদ বা সংস্করণ সংগ্রহ করতে পারিনি। তবে ইন্টারনেটে কাব্যটির একটি উৎকৃষ্ট ইংরাজী অনুবাদ রয়েছে - মথুরাস্থিত গৌড়ীয় বেদান্ত প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত।

যমুনাতীরের বনমালীর প্রেরণায় এবং ধীর সমীরের তাড়নায় এই অনুবাদগুলিতে একেবারে মজে গেলাম। তবে অনুবাদগুলি পড়ে আমার মনে হল বাংলায় কাব্যটিকে আরো সহজবোধ্য, স্বচ্ছন্দ এবং গতিশীল করা যায়। মাথায় ঢুকল আমাকেই এই কর্মটি করতে হবে। এদিকে আমার সংস্কৃত জ্ঞান বলতে সাড়ে চার দশক আগে স্কুলে পড়া ‘নরঃ নরৌ নরাঃ’। প্রথমে মনে হল এই বিদ্যা দিয়ে জয়দেবের যোজনব্যাপী সংস্কৃত যুক্তাক্ষরগুলির অর্থোদ্ধার করা সম্ভব হবে না। কিন্তু সেগুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে দেখলাম অনেকক্ষেত্রেই যুক্তাক্ষরগুলির সন্ধিবিচ্ছেদ করতে পারছি এবং তাতে শব্দ এবং পদগুলির অর্থও খানিকটা বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া ইন্টারনেটে পাওয়া ইংরাজী-বাংলা অনুবাদগুলি থেকেও পদগুলির ভাবার্থ অনেকটা পরিস্কার হল। ইতিমধ্যে একটি সংস্কৃত-বাংলা অভিধানও সংগ্রহ করে ফেলেছি। এই রকম যখন অবস্থা তখন দেবীদাকে অনুবাদকর্মের কথা বললাম এবং অনুরোধ করলাম এই কর্মে আমাকে সাহায্য করতে। তাঁর সংস্কৃতজ্ঞান আমার থেকে বেশী – ইস্কুলের শেষ ধাপ অবধি তিনি সংস্কৃত পড়েছিলেন। যাইহোক, তিনি এই কর্মে নিমরাজী হলেন।

এইভাবে গীতগোবিন্দের অনুবাদকর্মের চিন্তাটি মাথায় যখন থিতু হল তখন আমার মানসজগৎটি পুরোপুরি গীতগোবিন্দে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। গভীরভাবে নিদ্রিত অবস্থায় কি ঘটেছে বলতে পারব না, তবে কিছুদিন জাগরণে, শয়নে, স্বপনে ‘যতটুকু ফাঁক যেখানে যা পাই, গীতগোবিন্দের চিন্তা সেখানে চাপাই’ এরকম অবস্থা। এই অবস্থায় অনুবাদকর্মও ধীরে ধীরে এগোতে লাগল।

গত বছর (২০১২) জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তিন-চার দিনের জন্য আমার একবার দেশে যাবার পরিকল্পনা আগেই হয়ে ছিল। সেই যাত্রায় গীতগোবিন্দের সংস্কৃত শ্লোকগুলি, শ্যালকের আঁকা ছবির কপি, অন্য দুটি বাংলা অনুবাদ আর আমার করা অনুবাদের অসম্পূর্ণ খসড়াটি সঙ্গে নিলাম। উদ্দেশ্য বিমানে ওড়ার সময়টুকু্র যতটা সম্ভব অনুবাদকর্মে সদ্ব্যবহার করা। তাতে অনুবাদে অখণ্ড মনোযোগ দেওয়া যাবে আর দীর্ঘ বিমানযাত্রার একঘেয়েমিটাও কাটবে।

সুতরাং যা ভাবা তাই কাজ। বিমান ছাড়ার পর চর্ব্যচূষ্যলেহ্যপেয় সহযোগে দ্বিপ্রাহরিক আহারান্তে আশেপাশের যাত্রীরা যখন সামনের ছোটপর্দায় চলচ্চিত্রে মনোনিবেশ করেছেন অথবা নিদ্রাদেবীর সাধনার তোড়জোড় করছেন তখন আমি লেগে গেলাম অনুবাদকর্মে। মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে চিন্তা করি আর জুতসই শব্দ বা বাক্য মাথায় উদয় হলে সেগুলো লিখে ফেলি। এই রকম করে উড়োজাহাজের পেটের ভিতরের আলো-আঁধারিতে ভাবের ঘোরে অনেকক্ষণ কেটে গেল। অনুবাদকর্মও বেশ কিছুটা এগোল। তারপর বিকেলে পানীয় পরিবেশনের সময় বিমানকর্মী এবং যাত্রীদের চঞ্চলতায় ভাবজগৎ থেকে পুনরায় ‘ইহজগতে’ প্রত্যাবর্তন করলাম।

এই সময় জল আর ফলের রসের ট্রে নিয়ে যে হাওয়া-সখীটি আমার কাছে এলেন তিনি বললেন, ‘দেখলুম বেশীরভাগ যাত্রীই যখন ঘুমুচ্ছে, তখন আপনি খুব মনোযোগ দিয়ে লিখে যাচ্ছেন। আপনি বুঝি লেখক?’ আমি বললাম, ‘একটু আধটু লেখার অভ্যাস আমার আছে। এখন এই সংস্কৃত শ্লোকগুলির অনুবাদ করছি আমার মাতৃভাষা বাংলায়’। এই বলে তাঁকে সংস্কৃত শ্লোকের কাগজগুলো আর শ্যালকের আঁকা ছবিটা দেখালাম। ছবিটা দেখে জলদায়িনী বললেন, ‘আমি এই ছবিটা চিনি – রাধাকৃষ্ণের’। আমি আশ্চর্য হলাম না। কাজের সুবাদে এবেলা-ওবেলা এদেশ-ওদেশ উড়ে বেড়াচ্ছেন। ভারতেও হামেশাই যান। এ রকম ছবি নিশ্চয়ই কোথাও দেখেছেন আগে। তারপর কথায় কথায় জানলাম সিঙ্গাপুরী সুন্দরী শুধু বিমানসেবিকাই নন, যোগ শিক্ষাও দেন। মুম্বই এর কাছে যোগবিদ্যা গুরুকুল থেকে ট্রেনিং নিয়েছেন। মোবাইল ফোনে তুলে রাখা গুরুকুলের ছবিও দেখালেন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আমাকে প্রাণায়াম, মানবদেহের বিভিন্ন চক্র ইত্যাদির কথা বলে গেলেন। এসব ব্যাপারে আমারও একটু কৌতূহল আছে। বুঝলাম রতনে রতন চিনেছে!

গীতগোবিন্দের অনুবাদকর্মের মাঝামাঝি সময় থেকে শেষ পর্যন্ত একজন সংস্কৃতজ্ঞের সাহায্য পেলাম। তিনি হলেন গুজরাতের শ্রীশ্রী করুণাময়ী আশ্রমের স্বামী প্রবরানন্দ গিরি মহারাজ। এই ভাবে অনেকের সাহায্যে অনুবাদকর্মটি সম্ভব হয়েছে।


‘ধীর সমীরে যমুনাতীরে বসতি বনে বনমালী’
চিত্রায়ণে – তাপস দাস
(মেমারি, বর্ধমান)

‘ধীরসমীরে যমুনাতীরে বসতি বনে বনমালী’

চিত্রায়ণে – তাপস দাস

এই হল আমার গীতগোবিন্দে পাওয়া অবস্থা। সুখের কথা হল অনুবাদকর্মটি সাঙ্গ হয়েছে এবং সেটি সাইবার স্পেস নামক মহাশূণ্যে নিরালম্ব বায়ুভূতো অবস্থায় বৈদ্যুতিন মাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে। প্রাপ্তিস্থানের ঠিকানা হল https://payhip.com/b/fewd। ইচ্ছা আছে অদূর ভবিষ্যতে এটিকে ধরে-ছুঁয়ে-হাতে-নিয়ে পড়া যায় এমন চিরাচরিত বইয়ের আকারে প্রকাশ করার। যে ছবির সূত্রে আমাকে গীতগোবিন্দে পেল এবং আমিও গীতগোবিন্দ পেলাম, শ্যালকের আঁকা সেই ছবিটি উপরে ছাপা হল।

এবার আসি দূতের কথায়। দূত মানে কালিদাসের মেঘদূত। গীতগোবিন্দের অনুবাদ কর্মটি সম্পূর্ণ করতে পেরে আমি একপ্রকার তৃপ্তি লাভ করি। এই তৃপ্তিই আমাকে অনুপ্রেরণা জোগায় অন্য কোন একটি সংস্কৃত কাব্য অনুবাদ করতে। মাথায় এল মেঘদূতের কথা। এটিও আমি আগে পড়িনি। তবে সহজেই কাব্যের দুটি আলাদা আলাদা বাংলা অনুবাদ সংগ্রহ করতে পারলাম। সেগুলি পড়ার পর মনে হল একই সঙ্গে গদ্য আর পদ্য আকারে আর একটি বাংলা অনুবাদ করা যেতেই পারে। গীতগোবিন্দ মিলনান্তক কাব্য, মেঘদূত বিরহের। সুতরাং মিলন আর বিরহের দুটি কাব্যানুবাদের যুগলবন্দীটি মন্দ হবে না। তারই ফলশ্রুতি মেঘদূতের অনুবাদ। এটির অনুবাদকর্মেও শ্রী দেবীপ্রসাদ মজুমদার এবং স্বামী প্রবরানন্দ গিরি মহারাজ সাহায্য করেছেন। এটিও বৈদ্যুতিন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্তিস্থান https://payhip.com/b/Fwo3। ইচ্ছা আছে এই অনুবাদটিকেও পুস্তকাকারে প্রকাশ করার। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ-চিত্রটি এঁকে দিয়েছে সদ্য-স্কুলের-গণ্ডি-পেরোনো শ্যালক-কন্যা কল্যাণীয়া তনিমা। সেই চিত্রটি নিচে মুদ্রিত হল। এই হল আমার গীতগোবিন্দের সোপান বেয়ে মেঘদূতে উত্তরণ। এই দুই অনুবাদগ্রন্থের প্রচ্ছদচিত্রদুটির জন্য আমি উপরোক্ত পিতাপুত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।


‘আষাঢ়স্য প্রথমদিবসে মেঘমাশ্লিষ্টসানুং
বপ্রক্রীড়াপরিণতগজপ্রেক্ষণীয়ং দদর্শ।।’
চিত্রায়ণে – তনিমা দাস

ন্যূনতম সংস্কৃত জ্ঞান সত্ত্বেও বাগ্‌দেবীর কৃপাতেই আমার এই উত্তরণ সম্ভব হয়েছে। এখন এব্যাপারে লক্ষ্মীদেবী যদি কিঞ্চিৎ কৃপাদৃষ্টি নিক্ষেপ করেন তো এই প্রচেষ্টার ফললাভ সম্পূর্ণ হয়।

Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 

 

  Popular this month

 

  More from Dilip

PrabashiPost Classifieds



advertisement


advertisement


advertisement