Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

ব্যতিক্রমী বাঙালি

বিমান মল্লিক ভারত এবং বাংলাদেশ দুটি দেশের ইতিহাসের সঙ্গেই নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন অনায়াসে- সযত্নে আঁকার তুলি দিয়ে দুই দেশের গল্প বলেছেন উড়োচিঠির নীল খামের ওপর।

সুচেতনা সরকার
Tue, Oct 1 2013

Photograph: Aparajita Mullick

About সুচেতনা

পেশায় ফিজিক্সের হাইস্কুল শিক্ষিকা, আর নেশা অসংখ্য - গান শোনা, রান্নাবান্না, সুযোগ পেলেই বেড়ানো, ফুলের বাগান সাজান, লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা লেখা আর সবচেয়ে বড় নেশা হল ইতিহাস । পেশার সূত্রে বিলিতি সমাজটাকে মাটির কাছ থেকে দুচোখ ভরে দেখার সুযোগ জীবনকে চিনিয়েছে বহুমাত্রিক ভাবে । আর ইতিহাসের সাথে অভিজ্ঞতার বুনন মাঝে মাঝে কলম কালিতে এঁকে নেওয়াটা স্বপ্ন হয়ে জমে রয়েছে মনের মাঝে ।


More in Culture

Happy Colours of Life

Durga Puja in London: The UnMissables

Mahishasura Mardini

একা বোকা

 
সময়টা আমাদের জন্মের বেশ কিছুদিন আগেরই । তখন স্বাধীন ভারতের বয়স মাত্র ১৩ । বয়সন্ধিতে পৌঁছনো স্বাধীনতার শরীরে তখন বহুবিধ দুর্বলতা । রবি ঠাকুরের ভাষায় ১৩/ ১৪ বছরের ছেলের মুখে কচি কথাও ন্যাকামি আর পাকা কথাও জ্যাঠামি। ভারতবর্ষ নামের এই কিশোরের সেই সময়ে কিছুটা এরকমই অবস্থা ।

ব্রিটিশ উপনিবেশের পরিচয় পেরিয়ে তখনও আম-ভারতীয়ের তেমন কিছু পরিচয় দাঁড়ায়নি বিশ্বের দোরগোড়ায় । ষাটের দশকে দলে দলে বহু ভারতীয় এসেছেন ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে - পড়াশুনার খাতিরে অথবা চাকরির জন্যে অথবা শুধুমাত্র ভাল থাকবেন বলে । কিন্তু তাদের মধ্যে খুব কম মানুষই ইতিহাসের পাতায় নিজের পায়ের ছাপ এঁকে যেতে পেরেছেন । বিমান মল্লিক এমনই এক ব্যাতিক্রমী ভারতীয়- যিনি ভারত এবং বাংলাদেশ দুটি দেশের ইতিহাসের সঙ্গেই নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন অনায়াসে- সযত্নে আঁকার তুলি দিয়ে দুই দেশের গল্প বলেছেন উড়োচিঠির নীল খামের ওপর ।

ইমেল, ফোন ইন্টারনেটের আগের দুনিয়ায় তখন চিঠিই সম্বল । সেই চিঠি সাত সাগর পেরিয়ে এক দেশ থেকে আরেক মহাদেশ পাড়ি দিয়েছে এই বাঙালি শিল্পীর হাতের ছোঁয়া নিয়ে । ঘরে ঘরে বহু প্রতীক্ষিত সেই বিকেলের ডাক হাসি ফুটিয়েছে না জানি কত মানুষের ।

হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন ! এই শিল্পীই এঁকেছিলেন বা ডিজাইন করেছিলেন ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত প্রথম ভারতীয় থিমের স্ট্যাম্প । মহাত্মা গান্ধী প্রবেশ করলেন ব্রিটিশ ডাকটিকিটের ইতিহাসে এক বাঙালির হাত ধরে। স্বাধীন ভারতের বয়স তখন মাত্র ২২ - সদ্য তরুণ সেই স্বাধীন দেশের কথা লেখা হল ব্রিটিশ ডাকবাক্সের ডায়েরিতে ।

কেমন ছিল সেই যাত্রাপথ ? আসুন না তাঁর নিজের মুখেই শোনা যাক -
I was one of the seven designers who were commissioned to submit ideas for this project. The design brief gave complete freedom to the designers. Mahatma Gandhi maintained an extremely simple life style. This was a lead for me. I set out to achieve stark simplicity in this design. The stamp was a tribute to Mahatma and not a showcase to exhibit artistic ego. Therefore I worked with a self imposed limitation of austerity and created 18 simple designs ideas. Eventually the simplest one amongst them was chosen.


ব্রিটেনে মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত ডাকটিকিট চালু হয় ১৯৬৯-এর ১৩ই আগস্ট । সে’বছর বিশ্বজুড়ে গান্ধী শতবার্ষিকী পালন করা হয় । তাঁর সম্মানে যে ৩৫টি দেশ ডাকটিকিট চালু করে ব্রিটেন তাদের অন্যতম ।

হাওড়ার পঞ্চাননতলার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের শিক্ষিত এই তরুণ বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন লন্ডন আর্ট স্কুলে পড়বেন বলে । সেটা ১৯৬০ সাল । আজকের ব্রিটেন অনেক বেশি বহুজাতিক, বহুভাষী । তবুও নিজেদের এখনকার অভিজ্ঞতা দিয়েও বেশ বুঝি – বোধকরি বড় সুখের ছিল না সেই যাত্রাপথ । কিন্তু প্রকৃত মেধাবী শিল্পীকে একদিন না একদিন চিনতে পারেই বিশ্বজগত শুরুটা যতই কঠিন হোক না কেন । এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি ।

আবার আমন্ত্রণ আসে ডাক বিভাগের মন্ত্রী জন স্টোনহাউসের কাছ থেকে । এবারের দায়িত্ত্ব হল নবজাতক একটি দেশের জন্যে প্রথম আটটি স্ট্যাম্প আঁকার । এ সেই দেশ যার ভাষা মুখে নিয়ে আমরা সকলে জন্মেছি । যে ভাষাতে আমরা মা’কে ডেকেছি, যে সুরে আমরা গান গাই সেই বাংলাদেশ – কথা হয়েছিল এই স্ট্যাম্প বিক্রি করে যে টাকা হবে তা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য খরচ করা হবে ।

বাংলাদেশের জন্মলগ্নে সেদেশের সরকার বিমানবাবুকে বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট তৈরীর ভার দেয় । বিমানবাবুর নিজের কথায়, “আটটা স্ট্যাম্প দিয়ে একটি সেট ডিজাইন করি । আটটির একটিতে সঙ্গত কারণেই ব্যবহার করেছিলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি । এই আটটি ডাকটিকিট আমার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ।”

থেমে থাকেনি বিমানবাবুর লড়াই । ১৯৮৮ সালে বায়ুদূষণ থেকে মুক্তির জন্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুরস্কার ঝুলিতে ভরেছেন এই অনমনীয় শিল্পী । পুরস্কারের তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, এবং কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো ।

শিল্পী লেখক বিমানবাবু পেশাগত কারনে যুক্ত থেকেছেন বিবিসি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে । দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন মিডলসেক্স এবং কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে । অবসরপ্রাপ্ত এই শিল্পী লন্ডন ম্যারাথনে যোগদান করেছেন যখন তাঁর বয়স ৭২ । বাংলা প্রবাদে বাহাত্তর বছর বয়সের যে বিশেষণ বহুল প্রচলিত তা যে তাঁর ক্ষেত্রে কোনমতেই খাটে না সেটা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন । শিল্পীর মন চিরদিনই তরুণ - ছবি দিয়ে ছড়া লেখেন, ছড়া দিয়ে ছবি আঁকেন যে শিল্পী, তাঁকে কখনও বার্ধক্য ছুঁতে পারে ?

২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা পুরস্কার। আর যাঁরা এই পুরস্কার পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী এবং মাদার টেরিজা। হাসিখুশি মজাদার এই মানুষটির রসবোধ যে অসাধারণ তা তাঁর লেখা শিশুদের বইগুলি পড়লেই বোঝা যায়।

Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 
Nirmalya Nag (Wednesday, May 14 2014):
Ei manushtike samne anar janya dhanyabad. Ashay roilam je apnar itihaser jhuli theke erakom aro kichhu beriye asbe.
 

 

  Popular this month

 

  More from সুচেতনা

advertisement

PrabashiPost Classifieds



advertisement


advertisement


advertisement