Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

আমার রবীন্দ্রনাথ

মা বললেন, “এঁকে চিনে রাখ । জীবনের যে কোনও অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার জন্য কাউকে পাশে পাস বা না পাস, ইনি সব সময় থাকবেন তোর পাশে ।”

Aratrika Maitra
Fri, May 9 2014

Illustration: Rajat

About Aratrika

Aratrika is a student of Class VII in Kolkata’s Dolna Day School


More by Juniors

Tricolour & Rose Petals

My Greek Holiday

Rio reminds me of Sochi

My soccer my life

 
আকাশ কালো করে বৃষ্টি পড়ছে । সেই সঙ্গে ঘন ঘন মেঘের ডাক । বাড়ির সিডি প্লেয়ারে গান বাজছিল, ‘বাদল ধারা হল সারা, বাজে বিদায় সুর/ গানের পালা শেষ করে দে, যাবি অনেক দূর .....।’ গানটার অর্থ তেমন বুঝলাম না । কিন্তু কেন জানি না সুরটা গুনগুন করার চেষ্টা করছিলাম । মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘এটা কার গান?’ মা বললেন, রবীন্দ্রনাথ ।

তখন আমার বয়স কত জানি না । মাকে জিজ্ঞাসা করলে মা হয়ত বলতে পারবেন । তবে এটা মনে আছে, স্কুলে ‘প্লে গ্রুপ’-এ পড়তাম । স্কুলের হল ঘরে ‘প্রেয়ার’ হচ্ছিল । ‘আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া ...।’ কেমন যেন ভিতরে একটা কাঁপুনি টের পাচ্ছিলাম । কার গান ? টিচাররা বললেন, রবীন্দ্রনাথ ।

বাড়ির বইয়ের তাক থেকে মাঝেমধ্যেই মা কয়েকটা বই টেনে নিতেন । ‘কার বই মা ?’ একই জবাব, রবীন্দ্রনাথ । কী আশ্চর্য, স্কুলের ‘সহজ পাঠ’-ও তো রবীন্দ্রনাথেরই লেখা ! কে এই রবীন্দ্রনাথ ? মা বললেন, “এঁকে চিনে রাখ । জীবনের যে কোনও অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার জন্য কাউকে পাশে পাস বা না পাস, ইনি সব সময় থাকবেন তোর পাশে ।”

সেই শুরু । তার পরে কী ভাবে যেন রবীন্দ্রনাথ আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন । বাংলা ক্লাসে ভাষা ভাল করার জন্য আমি ওঁর কাছে যাই । গানের ক্লাসেও আমি ওঁকেই পাই । আমার বাবা-মা, বন্ধুর দল, সকলের সঙ্গে সেতু তৈরি করেছেন এই রবীন্দ্রনাথই তো !

ছোটবেলা থেকে শুনেছি, রবীন্দ্রনাথের একেকটা লেখার অর্থ আমরা একেক সময়ে, একেক বয়সে একেক রকমভাবে উপলব্ধি করতে পারব । তখন সেভাবে বুঝিনি, কিন্তু এখন বড় হওয়ার পথে চলতে চলতে বুঝতে পারছি একটা বাক্য কতগুলো ভিন্ন অর্থ মেলে ধরতে পারে । যেমন, ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকলখানে’ বা ‘তোমায় নতুন করে পাব বলে’ কিংবা ‘তাই তোমার আনন্দ আমার পর/ তুমি তাই এসেছ নীচে...।’

এখন গীতবিতান খুলে বসলে মনে হয়, যেন আমার অনুভূতিগুলোকেই রবীন্দ্রনাথ ভাষা দিয়েছেন । হয়তো আমার জন্যই লেখা ওঁর গান । মা-কে এই কথাটা বলার পর জানতে পারলাম, এমন অনুভূতি আমার একার নয়, অনেকেরই হয় । গ্রীষ্মের পর প্রথম বৃষ্টির আনন্দ হোক কিংবা স্কুলের কোনও বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া – সব কিছুই মেলানো যায় রবীন্দ্রনাথের কোনও না কোনো গানের সঙ্গে ।

রবীন্দ্রনাথের লেখা আমাদের ভাবতে শেখায় । ‘দুই বিঘা জমি’ বা ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতায় নিজেদের প্রতিফলন দেখে অধিকাংশ সময়ই লজ্জিত হই । ‘বিসর্জন’-এ ‘এত রক্ত কেন’ পড়ে অদ্ভুত কষ্ট ছেয়ে যায় মনের মধ্যে ।

একটা গল্প পড়েছিলাম, ‘সুয়োরাণীর সাধ’ । গল্পের শেষে সুয়োরাণী তাঁর সখীকে দুয়োরাণী সম্পর্কে একটা কথা বলেছিলেন, যা আমার খুব ভাল লাগে । “ওঁর বাঁশের বাঁশিতে সুর বাজল, আমার সোনার বাঁশি কেবল বয়েই বেড়ালেম, আগলে রাখলেম, বাজাতে পারলেম না ।”

দৃঢ় ব্যক্তিত্ব দিয়েও রবীন্দ্রনাথ আমাদের প্রভাবিত করেছেন । স্বদেশ পর্যায়ের গান শিখতে গিয়ে জানতে পারি ওঁর নিঃশব্দ বিদ্রোহের কথা । জানতে পেরেছি ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগের কথা । জীবনের নানা সময়ে বহু প্রিয়জনকে হারিয়েও যে তিনি মনের জোর হারাননি, তা থেকে আমরা তাঁর মানসিক দৃঢ়তার কথা জানতে পারি ।

রবীন্দ্রনাথ যে আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে তা বুঝতে দেরি হয়নি আমার । রবীন্দ্রনাথ নিজের গান-কবিতায় বলে গেছেন, ঘটা করে উদযাপন না করে তাঁকে নিজের হৃদয়ে স্থান দিলেই তিনি বেশি খুশি হবেন । আমরা, বাড়িতে এবং স্কুলে তাই রবীন্দ্রজয়ন্তীতে শুধু গান আর কবিতার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করি । আমাদের বাড়িতে কখনও ২৫শে বৈশাখ বা ২২শে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের ছবিতে মালা-চন্দন পরানো হয় না । বছরে দু’দিন তাঁকে আলাদাভাবে সাজিয়ে বাকি দিনগুলো হেলায় ফেলে রাখার অর্থ হয় না । তা ছাড়া, রবি ঠাকুর তো আমার প্রাণের বন্ধু তাঁকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখব কেন ?

মা আমাকে ছোটবেলা থেকে শিখিয়েছেন, অনুভূতি ভাগ করার জন্য রবীন্দ্রনাথকে সব সময়ে আমার পাশে পাব । এখন তো বড় হচ্ছি । খুব মন খারাপের দিনে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনলে মন ভাল হয়ে যায় । খুব আনন্দের সময়েও গুনগুনিয়ে উঠি রবীন্দ্রসঙ্গীত । তাই রবি ঠাকুর নোবেলজয়ী বিশ্বকবি হলেও তিনি আমার সবচেয়ে কাছের, সব সময়ের বন্ধু ।

Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 
Nirmalya Nag (Friday, May 9 2014):
Very mature article for a class VII student. Keep it up Aratrika. What your mother said is very correct. A person does not have any feeling which Rabindranath hadn't expressed in his writings. We can't even read in our entire life what he had written. One point at the end: do not think that decorating the poet's photo on two specific dates would mean neglecting him for the rest of the year. Some days are symbolic. We observe 'bhaiphonta' once a year. Does that mean a sister neglects her brother!
 

 

  Popular this month

 

  More from Aratrika

 

PrabashiPost Classifieds



advertisement


advertisement


advertisement