Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

রন্ধনে বন্ধনমুক্তি

রান্না আমার কাছে আর পাঁচটা একঘেয়ে কাজ নয় । বরং তা হল আমার একঘেয়েমির বন্ধন থেকে মুক্তির পথ, বাইরের দুনিয়ার জানলা ।

Leena Roy
Wed, Jul 3 2013

Illustration: Rajat Dey

About Leena

রান্নাঘরে যার অবাধ যাতায়াত আর বয়স যে নেশায় এতটুকু থাবা বসাতে পারেনি ।


More in Lifestyle

Ilish Lament

Durga for a day

Tandoori at Tel Aviv

Organic Lifestyle

 
দেখতে দেখতে ব্রিটেনে ৫৩টা বছর কেটে গেল, এটা ভাবতেই বেশ অবাক লাগছে । অথচ যখন পিছনে ফিরে তাকাই তখন মনে হয় এ’তো সে’দিনের কথা । শোভাবাজারের মেয়ে আমি, এক কথায় পুরনো কলকাতার প্রাণকেন্দ্র বলা চলে । বিয়ে হয়ে সেখান থেকে ১৯৬০ সালে হাজির হলাম লন্ডনের পশ্চিম উপকন্ঠ Reading-এ । এখন Reading (রেডিং) বলতে যা বোঝায় তখনকার সাথে তার আকাশপাতাল তফাত । সুপারমার্কেট বলতে মাত্র হাতেগোনা দুটি – David Craig আর Waitrose । David Craig- এ মূলত মাংস পাওয়া যেত আর Waitrose-এও ভারতীয় জিনিসপত্র পাওয়া বেশ দুষ্কর ছিল । Boots-এ মশলাপাতি বিক্রি হতো প্রায় Homeopathic ওষুধের শিশিতে । কাঁচালঙ্কা জনপ্রতি তিনটের বেশি পাওয়া যেত না । মাসে একবার Central London-এ Euston Station-এর কাছে Drummond Street-এ যেতে হতো দেশি জিনিস বাজার করতে ।

বিয়ে হয়ে যখন এ’দেশে আসি তখন আমার বয়স কুড়িও পেরোয়নি । একান্নবর্তী পরিবার ছেড়ে এই পরবাসে সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা । কর্তা কাজে বেরিয়ে গেলে কী করব ভেবে পেতাম না । প্রথমে ভেবেছিলাম Nursing নিয়ে পড়াশোনা করে কাজ করব, কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি । একাকীত্বের জীবনে শেষ পর্যন্ত রান্নাই হয়ে উঠল অন্যতম আশ্রয় ।

আমার কর্তা খাদ্যরসিক, তাই তাঁকে যাতে নানান পদ রান্না করে দিতে পারি সে’জন্য মা দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের recipe পাঠাতেন, আর তার সঙ্গে চিঠিতে থাকত পুড়িয়া করা মশলা । ভাগ্যিস তখন নিরাপত্তা নিয়ে এত কড়াকড়ি ছিল না !

Reading-এ যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তার পাঞ্জাবি মালিকের কাছে অনেক রান্না শিখেছি । চিরাচরিত English Breakfast baked beans-এর সাথে পেঁয়াজকুচি আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে কীভাবে তা দেশি রসনার জন্য উপাদেয় করা যায় তা শিখেছিলাম ওঁরই কাছে । আর ছিলেন আমার ‘কোরা মা’ - Cora Lodrick ।

Anglo-Indian এই মহিলার সাথে প্রথম আলাপ ঐ Reading-এই । তারপরে সেই সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ট হয় যে কোরা আমাকে তার মেয়ের মত স্নেহ করতেন । ১৯৬১ সালে লন্ডনে আসার পরে বাড়িতে কোনো ইংরেজকে নিমন্ত্রণ করলে তার আগে আমার কোরা মায়ের সাথে কথা হবেই । ইংরেজি আদবকায়দা থেকে শুরু করে তাঁদের খাবার বানানো পর্যন্ত সব বিষয়ে মিলত পরামর্শ । অনেক সময় হাতে কলমেও দেখিয়ে দিতেন তিনি । আজ আর তিনি বেঁচে নেই । কিন্তু আজও কোরা মায়ের স্মৃতি আমার হৃদয়ে অমলিন ।

রান্না নিয়ে আমার কৌতূহল ক্রমশ বাড়তে লাগলো, দেশি খাবারের পাশাপাশি বিদেশি খাবারের দিকেও আমার ঝোঁক তখন আগের তুলনায় অনেক বেশি । Italian খাবার Lasagne আর Shepherd’s Pie আমার ভীষণ প্রিয় । এছাড়া Casserole-ও পছন্দের খাবার ।

বিভিন্ন ধরনের খাবার নিয়ে উৎসাহ এতটাই বেড়ে গেল যে তা নিয়ে, বিশেষ করে বিদেশি রান্না নিয়ে একটা পেশাদার কোর্সও করে ফেললাম । আর আমার সৌভাগ্য যে আমার পছন্দের নেশাটাই শেষ পর্যন্ত আমার পেশাও হয়েছিল ।

এক সময় রান্না আমাকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছে । আবার এই রান্নার সূত্র ধরেই বিভিন্ন দেশ-বিদেশের খাবারের কথা জেনেছি, বহু লোককে খাইয়ে বিস্তর আনন্দও পেয়েছি । আমার ব্যক্তিগত এবং সামাজিক পরিচয় নির্ধারণেও রান্নার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে । বিগত অর্ধশতাব্দী ধরে এই রান্নার সূত্র ধরেই ব্রিটেনে সামাজিক বিবর্তনও লক্ষ্য করেছি - কীভাবে প্রথাগত ইংরেজ খাবারের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে মানুষের মন জিতে নিয়েছে বহু বিদেশি খাবার, যার মধ্যে ভারতীয় খাবারও অন্যতম । তাই রান্না আমার কাছে আর পাঁচটা একঘেয়ে কাজ নয় । বরং তা হল আমার একঘেয়েমির বন্ধন থেকে মুক্তির পথ, বাইরের দুনিয়ার জানলা ।

বেশ ক’বছর হল কাজ থেকে অবসর নিয়েছি । কিন্তু রান্নার ঝোঁক এতটুকু কমেনি । বড়দিন বা বছরের অন্য সময়ে যাঁরা বাড়িতে আসেন তাঁদের আজও রান্না করে খাইয়ে একই রকম আনন্দ পাই । আর আনন্দ পাই অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের সাবেকি বিভিন্ন খাবার রান্না করে খাইয়ে ।

Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 

 

  Popular this month

 

  More from Leena

 

PrabashiPost Classifieds


 

advertisement


advertisement


advertisement


advertisement