Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

পয়লা বৈশাখ

হাল খাতার সময় দোকানি যখন মিষ্টি আর ক্যালেন্ডার ছোটোদের হাতে তুলে দিতেন তখন মনে হত আমরা এক লাফে অনেক বড় হয়ে গেছি

Tirthankar Bandyopadhyay
Mon, Apr 14 2014

About Tirthankar

Tirthankar has spent much of his professional life working for the BBC. He is the editor of Prabashi Post.


More in Views

An Enigmatic Beauty

লিস্টিকেল

বরিশালের বাঙাল

My many Kolkata

 
আবার একটা পয়লা বৈশাখ এসে গেলো । আবার নতুন বছরে দেশে-বিদেশে গুরুজনদের প্রণাম জানানো আর ছোটোদের শুভেচ্ছা । প্রবাসী পোস্টের পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই ।

তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের সাথে যোগাযোগ এখন এক নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা । তা সত্ত্বেও পয়লা বৈশাখে যোগাযোগের এক আলাদা মাধুর্য রয়েছে । আর এর পেছনে প্রধান কারণ সম্ভবত আমাদের নস্টালজিয়া । তাই নববর্ষের দিনে কাজে যাওয়া-আসার সময় বা নববর্ষের আড্ডায় অতীতচারীতা ঘুরেফিরে আসে বারবার ।

কলকাতার উপকন্ঠে উদ্বাস্তু অঞ্চলে বড় হয়ে ওঠা আমাদের নববর্ষের উৎসব শুরু হয়ে যেত পয়লা বৈশাখের অনেক আগে থেকেই । গাজনের সময় প্রতি রাতেই আশপাশের গাঁ-গঞ্জ থেকে কালীকাচের দল দেব-দেবীর সাজ সেজে নেচে গেয়ে আমাদের পুরা কাহিনির গল্পগাছা শোনাতেন । চৈত্র মাস পড়তেই তাই দিনের প্রবল দাবদাহর শেষে আমরা মুখিয়ে থাকতাম কখন কালীকাচের দল হাজির হবে । বস্তুত সেই আকর্ষণ এতটাই তীব্র ছিলো যে আমরা সময়ের আগেই পড়াশুনা এবং রাতের খাওয়া সেরে ফেলতাম । আজ অতীতের দিকে ফিরে তাকালে মনে হয় পুরা কাহিনীর প্রতি আমাদের যে অমোঘ আকর্ষণ তার উৎসমুখ হয়ত ছিলো শৈশবে উপভোগ করা কালীকাচের সেইসব নাচ এবং গল্প ।

আর শুধু পুরা কাহিনির প্রতি আকর্ষণই বা বলি কেনো, অতীতের সেইসব আচার আমাদের শিখিয়েছে সহবত-সহাবস্থান কাকে বলে । প্রতি রাতে কারো না কারোর উঠোনে কালীকাচের দল হাজির হতো আর আমরা পাড়াশুদ্ধ সবাই সেখানে হামলে পড়তাম । কে কার বাড়ি টপকে যাচ্ছে তা নিয়ে কারোরই মাথাব্যাথা থাকত না । কতবার আমাদের পাশের বাড়ির ঠাকুমা আমাকে কোলে করে কালীকাচের নাচ দেখতে নিয়ে গেছেন আবার তাঁর কোলে ঘুমিয়ে পড়ায় পরম যত্নে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে গেছেন । আজ পরিণত বয়সে সেই সব দিনের অনুভূতিকে পূর্ব জন্মের কথা বলেই মনে হয় ।

চৈত্র সংক্রান্তির দিনে সকাল-সকাল স্নান করে আমাদের মুশুরির ডাল এবং নিম পাতা দাতে কাটতে হতো । মনে আছে তারপরে ঠাকুমা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আক্ষরিক অর্থে কাল্পনিক শত্রুর মুখে ছাই আর মিত্রর মুখে ছাতু দেওয়াতেন । এর পেছেন কারণ কী তা আজও জানি না, কিন্তু ওটাই রীতি ছিলো । আজকালকার ছেলেমেয়েদের হয়ত এসব রীতি-রেওয়াজ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই নেই, কিন্তু আমাদের শৈশবে আমরা এগুলো তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতাম । তখন হয়ত আজকের মতো বহুমাত্রিক বিনোদনের এত উপাদান ছিলো না কিন্তু যা ছিলো তাও কোনো অংশে কম নয় । আর সেইসব বিনোদন ছিলো আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ।

আজ আমরা হয়ত আগের থেকে স্বচ্ছল, জীবন তুলনামূলকভাবে বহুমুখী কিন্তু অতীতের যে রীতি-রেওয়াজ , যা আমাদের সমাজকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছিলো, সেগুলোর ভীষণ অভাব বোধ করি ।

তাই পয়লা বৈশাখের দিনে যখন দেশি দোকান থেকে মিষ্টি কিনি তখন বারবার মনে হয় আজ যদি এখানেও হালখাতা হতো । হরেকরকম মিষ্টিতে ভরা প্যাকেট আর তার সাথে একটি বাংলা ক্যালেন্ডার ।

পয়লা বৈশাখের দিনে আমাদের বাড়িতে রেওয়াজ ছিলো ঠাকুমার দেওয়া নতুন কাপড় পরতে হবে । আমাদের ছোটোদের জন্য তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্যান্ডো গেঞ্জি বা বড়জোর একটা সাধারণ জামার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত । আজ হয়ত আমাদের প্রাপ্তি বেড়েছে অনেক কিন্তু সেদিনের যে নতুন কাপড়ের গন্ধ এবং তারপরে সেই নতুন গেঞ্জির ওপরে পুরনো জামা চাপিয়ে বাড়ির বড়দের হাত ধরে হালখাতা করতে যাওয়ার মেজাজই ছিলো আলাদা । দোকানি যখন মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডার বড়দের না দিয়ে আমাদের ছোটোদের হাতে তুলে দিতেন তখন নিজেদের খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হত । মনে হত আমরা বোধহয় এক লাফে অনেকটা বড় হয়ে গেছি ।

এই স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরেই আমাদের ভালো লাগা আর ভালো থাকা । প্রবাসে এছাড়া আর উপায় কী !

Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 
Dr. Sugata Sanyal (Monday, Sep 22 2014):
Your this page and its contents, took me six decades back in old Calcutta, you have created the ambiance through your keyboard. Keep things flowing. This is beautiful. Warm regards: Sugata Sanyal
 

 

  Popular this month

 

  More from Tirthankar


PrabashiPost Classifieds



advertisement


advertisement


advertisement