Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

ভোটকাহন

শুধু তু-তু ম্যায়-ম্যায় নয়, ভোট মানে আরো অনেক কিছু । ভোট মানে হাল্কা হাসি চোখের জলও । আর সেদিকেই তাকালেন গৌতম চৌধুরী

Gautam Chowdhury
Thu, May 1 2014

Illustration: Rajat Dey

About Gautam


More in Views

An Enigmatic Beauty

লিস্টিকেল

বরিশালের বাঙাল

My many Kolkata

 
হাতে কাগজের কাপে চা । অন্তুবাবু বলে চলেছেন । দুধ চায়ে সর পড়ছে । অন্তুবাবুর মুখে ফেনা উঠে যাচ্ছে । তবু তিনি বলছেন।

অন্যরা যে মুগ্ধ শ্রোতা, এমন নয় । কেউ উসখুস করছেন পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য । কেউ ‘না মানে দাদা, ওটা ঠিক নয়’ বলে ঢোকার চেষ্টা করছেন লাইনে ।

তুলনায় স্বল্পভাষী কেউ কেউ বিরক্ত মুখে কাগজে চোখ রেখে বোঝাতে চাইছেন, এ সব কথার ঊর্ধ্বে তিনি । কিন্তু অন্তুবাবু নিরলস, অযতিসম্ভব (মানে যতিচিহ্নে মোটেও মতি নেই তাঁর), নিরবিচ্ছিন্ন ।

শব্দভাণ্ডার থেকে (বা বলা যায় তূণ থেকে, যা কি না মধ্যম পাণ্ডবের মতোই অক্ষয় তূণ) ছিটকে আসছে শব্দ—সারদা, নরেন্দ্র, মমতা, বুদ্ধ, রাহুল...। আলাদা করে শুনলে মনে হবে তিনি কোনও বুদ্ধজাতকের গল্প শোনাচ্ছেন। বা বলছেন রামকৃষ্ণদেবের সমসময়ের কথা । কিন্তু এই কড়া রোদে চায়ের আড্ডায় এমন ধর্মকথা শুনবে কে? অথচ অন্তুবাবুর শব্দবাণে আমোদিত হচ্ছে চারপাশ ।

কেউ সমর্থনে ঘাড় নাড়ছেন, কেউ বিরক্তিতে । কিন্তু শুনছেন তো !

চায়ের দোকানটি রাস্তার এক পাশে । পুরনো কলকাত্তাইয়া পাড়া । শহর চওড়ায় বাড়ার বদলে যখন থেকে লম্বায় বাড়ছে, পাড়া কনসেপ্টটাই তখন থেকে ক্ষীণজীবী চিররুগীর মতো বিছানা আঁকড়ে ফেলেছে । তবু কিছু জনপদ এখনও আছে মরুদ্যানের মতো যেখানে রক না থাকলেও অলস আড্ডা এবং চাট্টি বক্তিমেবাজি রয়ে গিয়েছে । আর যার ফলে কোনও মতে টিকে আছে চায়ের দোকানও ।

এই দোকানের পিছনের দেওয়ালটিতে কারুকাজ হয়ে গিয়েছে । ভোটের কারুকাজ । মনে আছে, বছর বিশেক আগে দেখেছিলাম, এই দেওয়াল চুনকাম করে কোণে সযত্নে ইজারাদারির ঘোষণা—ডিওয়াইএফআই ১৯৯৫-২০১৫ । অর্থাৎ, আগামী দু’দশকের জন্য দেওয়ালটি তাদের দখলে ।

কিন্তু এখন সে লালও নেই, তার ঝালও নিভে গিয়েছে । বদলে দেওয়াল জুড়ে সবুজের সমারোহ । এরা অবশ্য দিনক্ষণ মেপে দেয়নি । যা দেখে ভয় হয়, এই ইজারাদারি আবহমানের নয়তো !

বড় রাস্তা থেকে কিছু ভিতরে এই দোকানের কাছে, কী আশ্চর্য, একটি গাছও আছে ছায়াসমেত । কৃষ্ণচূড়া । শিকড় খুব গভীরে যায় না এ গাছের । তাই বড় ঝড়ে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে । আয়লার যে ল্যাজের ঝাপটায় কলকাতা কেঁপেছিল, তাতে এমন অনেক গাছ ভূমিশয্যা নিয়ে পুরসভা, পূর্ত দফতর আর প্রোমোটারদের কাজ কমিয়ে দিয়েছে । তাদের আর রাস্তা বড় করার অছিলায় বা বহুতল তৈরির নামে গাছ কাটতে হয়নি ।

ভাবতে অবাক লাগে, এ শহরের রাজনীতিতে সব নিয়ে টক্কর হয়, জ্বালানি বা নিত্যপণ্যের দাম থেকে মায় মার্কিন দাদাগিরি অবধি স-অ-ব, কিন্তু গাছ কাটা নিয়ে কেউ টু শব্দটি করে না । ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে এ বছর । মার্চের শেষ থেকেই পুড়ছে শহর । এপ্রিলেও কালবোশেখির চিহ্নমাত্র নেই। মে মাসে এমনই এক তাতা-পোড়া দিনে লাইন দিয়ে ভোট দিতে হবে শহরবাসীকে ।

এমন অবস্থায় দোকানটি কিন্তু মরুদ্যান । গাছের ছায়া, সঙ্গে অল্প হাওয়াও, বাপীদার সমানে জুগিয়ে যাওয়া চা, সিগারেট—রাজাউজির মারার এমন জায়গা আর কোথায় মিলবে !

অন্তুবাবু তাঁর তীব্র বাক্যস্রোতের মধ্যে মুখ ঘুরিয়ে বললেন, ‘বাপী, আর এক কাপ ।’ এই সুযোগে লাইনে ঢুকে পড়লেন মুখুজ্জেদা । কিন্তু তিনি অন্তুবাবু নন । তাই কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে লেঙ্গি মারতে অসুবিধা হল না বাচ্চুর । নতুন প্রজন্মের ছেলে, পরে সে জিভ কেটে বলেছিল, ‘মুখার্জিকাকুকে লেঙ্গি! ছি ছি ! তবে হ্যাঁ, কড়া ট্যাকল বলতে পারেন ।’

অন্তুবাবু বিশ্রাম নিচ্ছেন। দ্বিতীয় রাউন্ড চায়ের পরে সিগারেট ধরালেন । মুখেও স্মিত হাসি। মানে, দেখি আর কে কত তড়পায় ! তার পর নামব আবার ব্যাট হাতে ।

এর মধ্যে স্টেপ আউট করে মার শুরু হয়ে গিয়েছে অন্যদের । কেউ খণ্ডন করতে চাইছেন অন্তুবাবুকে, কেউ আবার খণ্ডনকারীকেই । সভায় পাক খেয়ে উঠছে আরও নানান বিষয় । কখনও গুজরাতের জনজীবন তো কখনও ওপেকের তেলের দাম বেঁধে দেওয়ার প্রক্রিয়া, কখনও জাপানের কর্মসংস্কৃতি তো কখনও আমেরিকার ছাঁটাই নীতি, কখনও টাটা-অম্বানী তো কখনও অমর্ত্য-ভগবতী ।

অন্তুবাবুর সিগারেট শেষ। রুমালে মুখ মুছে মিটিমিটি হেসে তিনি আবার স্টান্স নেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন, এমন সময়...

আর কী, ট্যাঁকের ভিতরে ট্যাঁক ট্যাঁক করে বেজে উঠল সেলফোনটি । বাড়ির নম্বর । কানে লাগাতেই ও প্রান্তে গৃহিনী । এতই জোর তাঁর কথায় যে আশপাশের লোকও শুনে ফেলল কিছুটা ।

অন্তুবাবু ততক্ষণে নিভে গিয়েছেন। ফোনটা পকেটে রেখে বললেন, চলি ।

দুপুর দেড়টা । অন্তুবাবুর সঙ্গেই যেন সভা থেকে তর্কাতর্কিটা চলে গেল । এক জন শুধু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, এখন মেয়েদেরই রাজ রে ভাই ! গরম লু বাতাসে কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতাগুলো তখন ফড়ফড় শব্দ তুলেছে ।

Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 
Kajari Guha (Thursday, May 15 2014):
Darun!Chaliye jan!!!
 

 

  Popular this month

 

  More from Gautam


PrabashiPost Classifieds



advertisement


advertisement


advertisement