Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

ভোট কম্বল

স্মৃতির চাদর মুড়ি দিয়ে ভোট সাগরে গা ভাসালেন রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য

Ramkrishna Bhattacharya
Tue, May 6 2014

Illustration: Rajat Dey

About Ramkrishna

Retired pharma salesman.

So far two books in Bengali
has been published. One of them is
ChaporGhonto, a collection of eleven articles , now in third print.
Another is Dotola Bus, containing short stories.


More in Views

An Enigmatic Beauty

লিস্টিকেল

বরিশালের বাঙাল

My many Kolkata

 
ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি ভোট মানে ভুটান থেকে আসা সোয়েটার, কম্বল ইত্যাদি । ভোট-কম্বল গায়ে বেশ কুটকুট করত, তবে শীতকালে তা বেশ আরামদায়কও ছিল ।

সেই ১৯৫২ থেকে, ইংরেজি কোট-প্যান্ট পরে ফেলে ভোট শব্দটার অর্থই কেমন যেন পাল্টে গেল । আমরা আরও একটা শব্দ পেলাম - ইলেকশন । যেন ভোট শব্দটা বাংলা ।

বাংলা ভার্সান একটা হলো বটে, কিন্তু কেউ আর নির্বাচন বলে না । সবই ওই গিনেস বুকের মতো -খবরের কাগজে সীমাবদ্ধ । মত প্রদানকে কেউ পাত্তাই দিল না । এমনকি 'ভোটাধিকার' প্রয়োগ করুন বলে একটা হাঁসজারু সমাস বা সন্ধিও চালু রয়েছে আজকাল ।

সাতান্ন সালে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে, বিধান রায় নাকি হেরে গিয়েছিলেন । এটা অনেক পুরোনো সাংবাদিকই বলেছেন এবং লিখেওছেন । বৌবাজার কেন্দ্রে সিপিআইয়ের মহম্মদ ইসমাইলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পোষ্টাল ব্যালটে জিতেছিলেন মাত্র ৪৫২ ভোটে । এই ব্যালট গণনার সময় লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ।

কুলোকে এমন অনেক কথাই বলে, কান দেবেন না ।

ঐ সময় নাগাদ, একবার উত্তরবঙ্গের এক শহরে পুরভোট হবে । তখন ঐ শহরে কলকাতা থেকে কাগজ পৌছত সন্ধেবেলায় । পরের দিন সকালে হকাররা সেই কাগজ বিলোতেন । কলকাতার সূর্য একদিন পরে উঠতে ওখানে ।

রাস্তার আলোও সেরকম ছিল না । লণ্ঠন নিয়েই যাতায়াত করতেন লোকজন । বড়লোকেরা টর্চলাইট ।

একটি ওয়ার্ডের প্রার্থী ভোটের আগের দিন, কিছু চেলা নিয়ে বেরোলেন লণ্ঠন হাতে । বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলে এলেন, "ভোট পিছিয়েছে, বলে টেলিগ্রাম এসেছে । ভোট আগামীকালের বদলে পরশু হবে ।"

বিশ্বাস করে, প্রচুর লোক ভোট দিতে গেলেন না । প্রার্থী নিজের লোকেদের ভোট দিতে নিয়ে গেলেন ভোট কেন্দ্রে । ফল বেরোলে দেখা গেল তিনি ১৫০ ভোটে জিতেছেন । বিপক্ষে মাত্র দুটো ভোট ।

তখন তো আর এগিয়ে থাকা বা পেছোনোর কোনো গল্প ছিল না । পরে ফাঁস হলেও "অপরম্বা কিম্ ভবিষ্যতি" হয়ে গালে হাত দিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর উপায় ছিল না ।

এখনও অবশ্য কিছু করার থাকে না । কব্জি কাটা যাওয়ার ভয় থাকে । বাড়িতে বোম পড়ার আশঙ্কা । এরকম প্রতিবাদ করলে সধবাদের বাড়িতে সাদা থান পাঠানোর আর্জি আসে ।

লোকেরা প্যান্টালুনস্ অফার নেয় - একটা কিনলে দুটো ফ্রি, কিন্তু সাদা থানের অফারটা ফ্রি হলেও, কেউ ছুঁয়েও দ্যাখে না ।

জোড়া বলদ থেকে রূপ পাল্টে গাই বাছুর তারপর হাত - ভোটের চিহ্ন বারবার পাল্টেছে । সঙ্গে বদলে গেছে আরো অনেক কিছু । ছড়া কাটলো অনেকে – "দিল্লি থেকে এলো গাই, সঙ্গে বাছুর সিপিআই" ।

কাস্তে ধানের শীষ থেকে গেল, আরেকটা দল তৈরি হল – কাস্তে হাতুড়ি তারা । “কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না” । অনেকেরই এই স্লোগান “বুকের মধ্যে দিয়ে , মরমে পশেছিল” । ভোট পাবে কারা- কাস্তে হাতুড়ি তারা । এই সব শ্লোগানে তখন ভরপুর ভোটের বাজার ।

বাবুলালের চায়ের দোকানে কিছু লোককে দেখতাম ময়লা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা । লাল চা খেতে খেতে কিছু বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনায় মগ্ন । টুকরো-টাকরা কথা ছিটকে আসতো । একদিন একজনকে বলতে শুনলাম- "পার্লামেন্ট শুয়োরের খোঁয়াড়, এটা মেনেই বলছি- পার্লামেন্টে যখন ঢুকেছেন তখন শুয়োরের ঘোঁত ঘোঁত সহ্য করতেই হবে, দাদা ।"

উত্তেজিত ভাবে আর একজনকে উত্তর দিতে শুনেছিলাম- "তা হলে বিপ্লবের কথা আর বলা কেন?”

আরও কয়েকটা কথা শুনেছিলাম । জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ।

আর এক দিন একটা নতুন কথা শুনলাম । “বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক”।

ওদিকে কৈশোর বয়স । বাস্তুহারা সম্মিলিত উদ্বাস্তু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়েদের দিকেই বেশি নজর । হ্যাফ-প্যান্ট পরা থাকায় পায়ের লোম বেরিয়ে থাকত । দিদিমাকে তাড়া দিয়ে, ফ্যানা ভাত আর আলুসেদ্ধ খেয়ে তাড়াতাড়ি স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়তাম । লক্ষ্য ছিল, মেয়ে দেখা । তখন তো খালি এই সব করে বেড়ানো ।

আমাদের উদ্বাস্তু কলোনিতে তখন একটা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, গাঁন্ধীজী শুধুমাত্র নেহেরুকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য, ভারত ভাগ মেনে নিয়েছিলেন । পরে, এই ধারণাটা সত্যে পরিণত হয় ।

ভারতীয় সমাজে, অন্যায়-অবিচার একটি শক্তিশালী কাঠামোর ওপরই দাঁড়িয়ে আছে, এটা এখন প্রমাণিত । সেই অন্যায় অবিচার কখনও মুছে যায় নি । সেটা ৩৪ বছরই হোক বা হালের বিগত তিন বছর ।

তাত্ত্বিক কচকচানি না বুঝেই সকলের আশ্রয় দরকার - দরকার রোজগার । চাই দু'মুঠো ভাত ।

এর জন্যেই নাকি ভোট । বাস্তবে আমরা যে ভোটটা কাকে দিই, সেটা সবাই বোঝে এখন । বড় ব্যবসায়ীদের পকেটেই যায় ভোট । আর আমরা নিঃশব্দে স্বপ্ন বুনি- জুঁইফুলের মত সাদা ভাতের ।

"কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না" - এই স্লোগান এখন “ভোট-কম্বল" দিয়ে ঢাকা ।

Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 
Kajari Guha (Thursday, May 15 2014):
Excellent combination of reality and romance!Erakam lekha aro padte chai.
 

 

  Popular this month

 

  More from Ramkrishna


PrabashiPost Classifieds



advertisement


advertisement


advertisement