Cookie Policy          New Registration / Members Sign In
PrabashiPost.Com PrabashiPost.Com

বিদায় শচীন

ব্র্যাডমানের ব্যাটিং গড় যেমন আজও অধরা তেমনই শচীনের দুশোটি টেস্ট খেলার রেকর্ডও হয়ত ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে ।

Kashinath Bhattacharjee
Sat, Nov 16 2013

About Kashinath

A well-known sports journalist who has the rare distinction of covering various sporting events. For more information please have a look at his blog site: kashinathbhattacharjee.blogspot.com


More in Sports

ফুটবল ধর্ম

World Cup 2014: A Case of Wisdom Tooth

An Indian in Football’s Heaven

বিশ্বকাপের ছায়ায়

 
‘তেন্ডুলকর’ পদবির সঙ্গে প্রথম পরিচয় ? ‘রজনী’ প্রিয়া তেন্ডুলকরের সৌজন্যে, গত শতাব্দীর আটের দশকে দূরদর্শনে রবিবার সাদা-কালো দুপুরে ‘ লেড়কি হ্যায় এক নাম রজনী হ্যায়’, আশা ভোঁসলের কন্ঠবাহিত !

আসলে, অন্য সবার মতোই আমাদেরও একটা কৈশোর ছিল । অমিতাভ-মিঠুন, রফি-কিশোর, হেমন্ত-মান্না, পেলে-মারাদোনা আর গাভাসকার-কপিল । তর্কে উত্তাল দুপুর-বিকেল-সন্ধে । টিভি বলতে তখনো বুধবারের ‘চিত্রহার’, ‘সুবহ’ – কখনো ‘হম লোগ’, ‘বুনিয়াদ’, ‘নুক্কড়’ । ২৪X৭ - প্রশ্নই ওঠেনি – ৭০ শতাংশ লোকের বাড়িতে তখন টিভিই নেই ! তবে, পর্দায় প্রণয় রায়ের ‘World This Week’ –এর সৌজন্যে মাস্টারমশাইরাও টিউশন থেকে ছুটি দিয়ে দিতেন, দেখার পরামর্শসহ ।

জার্মান দেওয়াল অটুট, অনেক বাড়িতেই ‘সোভিয়েত নারী’ বলে একটা বই আসে ডাক-মারফত, USSR-এর পুরোটা নাকি ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ সোভিয়েত রাশিয়া’ গোছের ভুলও শোনা যায় অহরহ । লেভ ইয়াসিন যে রাশিয়ার ‘কালো মাকড়সা’ বা চেকোশ্লোভাকিয়া-যুগোশ্লাভিয়া নামদুটো পাড়ার ডাক্তারজেঠুর বাড়িতে বিশ্বকাপ ফুটবলে রাতজাগার কারণে জেনে ফেলেছি । অন্য কোনোভাবে জানার সুযোগ বলতে তখন বড়দের কথা আর লাইব্রেরিতে বসে দু-তিনটে খবরের কাগজ দেখা । ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন এসব নামই শোনা যায়নি, দেখা বা ব্যবহার তো অন্তত বছর ১৫ দূরের ভবিষ্যৎ ! গদাইলস্করি চালে জীবন, রিয়েলিটি শো-হীন, ইঁদুর ধরার দৌড় নেই । মোহিন্দর অমরনাথের বলের গতির মতোই, স্লো-মিডিয়াম পেস । ব্যাটসম্যান বলের জন্য অপেক্ষা করতে করতে হতাশ হয়ে স্ট্রোক খেলে ফেলার পর বল এসে পৌঁছয় এবং উইকেট নিয়ে যায় । রবি শাস্ত্রী ৫০ ওভার ব্যাট করে ৫৭ রানে নট আউট থেকে ‘Man of the Match’, আমরা আনন্দে আত্মহারা !

এমনই এক সময়ে হঠাৎ হইহই, এক বছর-১৫ নাকি পাকিস্তানের মাটিতে আব্দুল কাদিরকে এক ওভারে চার-চারটে ছক্কা মেরে আক্ষরিক অর্থেই মাঠের বাইরে ফেলে দিয়েছে । পদবির মিল থাকার কারণে এক পরম মিত্র প্যারডি গেয়েছিল, ‘লেড়কা হ্যায় এক নাম শচীন হ্যায়, শচীনকি এক ইহে কাহানি হ্যায়’ ।

ফ্ল্যাশব্যাক ছেড়ে সাঁ করে ২৪ বছর পরের এই বর্তমানে পৌছতে গিয়ে হোঁচট খেতে হল না যদিও, একবারও । বিশ্বনাথন আনন্দ আছেন, ১৯৮৮ সালে গ্র্যান্ডমাস্টার, এখনও বিশ্বসেরাই । আর কেউ? কাছাকাছি লিয়েন্ডার পেজ, উইম্বলডন আর ইউ-এস ওপেন-এ জুনিয়র খেতাব জিতে পেশাদার ১৯৯১ সালে, এখনও খেলছেন; রায়ান গিগস, ক্লাব-ফুটবলে সামিল সেই ১৯৯১ থেকেই । একান্তই ব্যক্তিগত মত, বিশ্বনাথন আনন্দের কৃতিত্ব অতুলনীয় – সত্যিকারের ভারতরত্ন । কিন্তু আম-ভারতবাসীর কাছে সিকি-শতাব্দী ধরে তো একজনই ‘আনন্দদাতা’ । সাদা-কালো টিভির যুগ থেকে উঠে এসে যিনি এল ই ডি প্লাজমায় পৌঁছেছেন; কালো-মোটা স্থির টেলিফোনের যুগ থেকে ফোর-জি স্মার্ট ফোনের জমানা দেখেছেন নিজের হাতে; জার্মানিকে এক হতে দেখেছেন, সোভিয়েত-কে টুকরো-টুকরো; রাজীব গান্ধীর আমলে অভিষেক থেকে মনমোহন সিংয়ের আমলে অবসর পর্যন্ত ন’বার প্রধানমন্ত্রী বদলাতে দেখেছেন, বেঙ্কটরমণ থেকে প্রণব মুখার্জি পর্যন্ত ছ’জন রাষ্ট্রপতি । এবং, এসবই তাঁর এক ক্রিকেটার-জীবনে ।

শচীন সম্পর্কে কোনও নতুন তথ্য সরবরাহ করা তাই স্রেফ অসম্ভব । গত ২৪ বছর ধরে শচীন-চর্চায় মগ্ন থেকেছে আপামর ভারতবর্ষ । কী কী করেছেন তো বটেই, কী কী করেননি, মখস্থ তাও ।

বাবা-মা-ভাই-বোন-স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে, সবার সব কিছু জানা । প্রিন্ট মিডিয়ার হাজার হাজার টন নিউজপ্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার হাজার হাজার মিনিটের আপডেট, বিজ্ঞাপনী দুনিয়ার কোটি-কোটি ডলারের চুক্তি, ক্রিকেট দুনিয়ার তামাম রেকর্ড – ভারতবাসী চেটেপুটে খেয়েছে শচীন সম্পর্কিত সব । আগে থেকে অবসরের দিন-তারিখ জানিয়ে দেওয়ায় সুবিধা হয়েছে সবারই । শচীন-পুজোয় মেতে উঠতে, গত মাসখানেক । সমাজের সবস্তর থেকে এসেছে স্বতঃস্ফূর্ত প্রশংসা । শচীন-বন্দনায় হাজির আট থেকে ৮০ । তাই নতুন করে ব্যাটিংয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণও অনর্থক ।

বিদায় নেওয়ার আগে প্রশ্ন একটাই – ক্রিকেট ইতিহাসে কোথায় তাঁর স্থান ?

ডন ব্র্যাডম্যানকে পেরনো কোনো ব্যাটসম্যানের পক্ষেই সম্ভব নয় । দাপটে গারফিল্ড সোবার্স বা ভিভ রিচার্ডস, লাবণ্যে বা বড় রানের ইনিংসে ব্রায়ান লারা, নির্ভরতায় অনতিক্রম্য গাভাসকার ।

তা হলে ?

ব্র্যাডম্যানের ক্ষেত্রে সব প্রশ্ন এক জায়গায় গিয়ে থেমে যায়, অমানুষিক টেস্ট-গড় ৯৯ দশমিক ৯৪ । দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গ্রেম পোলকের ৬০ দশমিক ৯৭ । ব্যবধান ৩৯ ! শচীন তেন্ডুলকরও তেমনি সমার্থক হয়ে থাকবেন ২০০ টেস্ট-সংখ্যার সঙ্গে । মরণশীল অন্য প্রচুর সাধারণ এবং অনন্যসাধারণ ক্রিকেটারও যে স্বপ্ন দেখেই চলবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩০ বা ২৫-এর ব্যবধান বোধহয় থেকেই যাবে ।

Please Sign in or Create a free account to join the discussion

bullet Comments:

 

 

  Popular this month

 

  More from Kashinath

 

PrabashiPost Classifieds



advertisement


advertisement


advertisement